রাত জেগে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে আপনার কি হয় দেখুন। (ভিডিও সহ)

Breaking News আইটি বিষয়ক তথ্য প্রযুক্তি ফিচার-বিশেষ প্রতিবেদন শিক্ষা সংবাদ সকল ভিডিও সকল সংবাদ সংবাদ
Share on Social Media
 
    
   

আসসালামু আলাইকুম। mbtv24 এর পক্ষ থেকে সকলকে  স্বাগতম। আশা করি ভালো আছেন।  আজকে আলোচনা করবো- অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করলে আমাদের কি কি সমস্যা হতে পারে। রাত জেগে ঘন্টার পর মোবাইলে ইন্টারনেট ব্রাউজ করলে কি কি সমস্যা হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সমূহ আলোচনা করবো।আপনি চাইলে নিচের ভিডিওতেও দেখতে পারেন কি কি সমস্যা হতে পারে।

মোবাইল ফোন বর্তমান বিশ্বকে সবার হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। মোবাইল ফোনের কারণে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ, ব্যবসা, বানিজ্য,  চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি সব কিছুই আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। মানুষ এখন ঘরে বসেই দেশ বিদেশের যে কোনো খবর জানতে পারছে। কিন্তু মোবাইল  আমাদের যেমন উপকার করে, তেমনি আমাদের শারিরীক ও মানুষিক অনেক ক্ষতি ও করে।

ইদানীং ছোট থেকে বড়ো সবার হাতেই স্মার্টফোন রয়েছে। আর এর মাত্রাধিক ব্যবহার ও লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন এর ফলে আপনার কি কি সমস্যা হচ্ছে বা হতে পারে? আজকের  আলোচনার মূল বিষয়ঃ- অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কুফল। তাহলে, চলুন জানা যাক- অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করলে আমাদের কি কি সমস্যা হতে পারে:-

. চোখ জ্বালা করা দৃষ্টিশক্তি হ্রাসঃ

মোবাইল ফোন সহ যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের দিকে দুই ঘন্টার বেশি সময় তাকিয়ে থাকলে চোখ জ্বলতে থাকে। এমন মনে হয় যেন, গত দুই তিন দিনেও ঘুম হয়নি। এটি মূলত মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে থেকে বিচ্ছুরিত হওয়া এক ধরনের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে হয়ে থাকে। এই রশ্মির প্রভাবেই চোখ জ্বালা করে, দৃষ্টি শক্তি কমে যায়, চোখে ঝাপসা দেখা যায়।

দীর্ঘক্ষণ মোবাইলের ডিসপ্লের লাইটের দিকে তাকিয়ে থাকলে মোবাইল থেকে এক প্রকার আলোকরশ্মি সরাসরি আপনার চোখের রেটিনায় আঘাত করে। যার কারণে আস্তে আস্তে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। এমনকি চোখের রেটিনা নষ্টও  হয়ে যেতে পারে। তাই সময় থাকতে আাপনার চোখ কে ভালো রাখতে মোবাইল ব্যবহার কমান। এক নাগারে অনেকক্ষণ ধরে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকুন।

সমাধানঃ আপনি চাইলে চোখের সমস্যা এড়নোর জন্য এক ধরনের bluecut গ্লাস আছে যা মোবাইল ফোন থেকে নির্গত হওয়া ঘামা রশ্মি প্রতিরোধ করতে পারে, সেগুলো ব্যাবহার করতে পারেন। এতে আপনার চোখ সুরক্ষিত থাকবে।

. মাথা ব্যাথাঃ

অতিরিক্ত মোবাইল  ব্যবহারের ফলে আমাদের যেসকল সমস্যা হয়, তার মধ্যে মাথা ব্যাথা অন্যতম। বিশেষ করে অনেকক্ষণ ধরে মোবাইলের ডিসপ্লের দিকে একভাবে তাকিয়ে থাকায় এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। মূলত মাথা ব্যাথার একটা গুরত্বপূর্ণ  কারণ হলো একই সময়ে অনেক বেশি চিন্তা করা, অনেক বেশি কিছু নিয়ে আলোচনা করা কিংবা একসাথে অনেক কিছু মাথার মধ্যে ঘুরপাক করা। আপনি যখন ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে বিভিন্ন তথ্য, ছবি, ভিডিও দেখতে থাকেন তখন আপনার ব্রেণ খুব বেশি ক্ষয় হয়। আপনি এতো কিছুর সম্মুখীন হন বা এতোকিছু আপনার সামনে আসে; যার ফলে আপনার ব্রেনের উপর প্রচুর চাপ পড়ে।এতে আপনার মাথার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। যার কারনে মাথা ব্যাথা হয়ে থাকে।

সমাধানঃ এক নাগারে অনেকক্ষণ ধরে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা তথা মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

. চিন্তা শক্তি হ্রাসঃ

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও নকলের আশ্রয় নেওয়ার কারণে দিন দিন দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে। মোবাইল ফোনের কারণে দেশে দূর্নীতি বাড়ছে। মোবাইল গেমস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে শিশুরা এখন খাবার ও সময় মতো খায় না। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে মানুষের চিন্তা শক্তি হ্রাস পায়। সৃজনশীল মেধা কমে যাওয়ার ফলে নতুন কিছু সৃষ্টির দক্ষতা কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

. ঘাড় ব্যাথাঃ

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা দিনের বেশির ভাগ সময় প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে মোবাইল স্কিনের দিকে তাকিয়েই কাটিয়ে দেন। আর মোবাইল ব্যাবহারের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় আমরা ঝুঁকে থাকি। এর প্রভাবে আমাদের ঘাড় ব্যাথা হয়ে যায়। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে ঘুমের সমস্যা হয়। অনেকে গভীর রাত জেগে মোবাইল দেখে। এতে মস্তিষ্কের উপর প্রভাব পড়ে। আমেরিকার এক তথ্য বিশেষজ্ঞের মতে, মোবাইল ফোন ব্রেন, মাথা ব্যাথা ও ঘাড় ব্যাথার অন্যতম কারণ।

. কানের সমস্যাঃ

মোবাইল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কানে সমস্যা। অনেকে ঘন্টার পর ঘন্টা কানে হেড ফোন লাগিয়ে থাকে গেমস খেলে কিংবা অনলাইনে ছবি, গান, নাটক ইত্যাদি ভিডিও দেখেন। যার ফলে কানে সমস্যা দেখা দেয়।আর এভাবে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে আস্তে আস্তে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়।

. শারিরীক ক্লান্তিঃ

একাধারে অনেকক্ষণ ধরে মোবাইল ব্যবহারের ফলে আমাদের দেহ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে ও ক্লান্ত হয়ে যাই। মেজাজ চড়া হয়ে যায়। ফলে ঘরের কোনো কাজের প্রতি আর মন বসে না। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন  ব্যবহারের ফলে শারিরীক পরিশ্রম কম করা হয়, অবসাদ চলে আসে এবং শারিরীক দুর্বলতা ও খুব ক্লান্তি  অনুভব হয়।

. মেজাজ খিটখিটে হওয়াঃ

কেউ যখন মোবাইল দেখে তখন স্বাভাবিকভাবে বাহিরের সব কিছুর প্রতি সে অমনোযোগী হয়ে পড়ে। তখন সে নিজের অজান্তেই অন্যের সাথে খারাপ ব্যাবহার করে। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীর মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এই ধরনের পরিস্থিতির স্বীকার হলে আপনাকে অবশ্যই মোবাইলের উপর থেকে আসক্তি কমিয়ে আনতে হবে।

. পড়াশোনায় মন না থাকাঃ

অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে আপনার মেধা শক্তি হ্রাস পেতে পারে।যার ফলে পড়াশোনা মনে রাখার ক্ষমতাও আপনার মস্তিষ্ক হারিয়ে ফেলতে পারে।একটু আগেই কি পড়ছিলেন একটু পরে তা আপনি আর মনে করতে পারবেন না।কারণ আপনার মনোযোগ সব সময় ফোনের মধ্যেই থাকে। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের ফলে আপনার মস্তিস্কের ধারণ ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

. কানের মাইগ্রেনের সমস্যাঃ

অতিরিক্ত ফোনে কথা বলার ফলে আপনার কানের সমস্যা বা মাইগ্রেন এর মতো বিরাট সমস্যাও হতে পারে। কারণ আমরা যখন কারো সাথে ফোনে কথা বলি তখন আমরা ফোন কানের সাথে রেখেই কথা বলি। তা ৫/১০ মিনিট এর জন্য স্বাভাবিক কিন্তু সেটা যদি ১/২ ঘণ্টার মতো দীর্ঘ সময় ধরে হয়, তাহলে আমাদের কানে ব্যথা, কম শোনার মতো জটিল সমস্যা হতে পারে। আর এটা যদি প্রতিদিন হয় তাহলে মোবাইলের এই সাউন্ড সরাসরি আমাদের কান থেকে মাথায় চাপ সৃষ্টি করবে। যার ফলে মাইগ্রেন এর মতো কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

 

১০. চোখ লাল হওয়া পানি পড়াঃ

অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের ফলে আপনার চোখ সবসময় লাল হয়ে থাকতে পারে। কারণ অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার করার সময় ফোনের উচ্চ আলোক রশ্মি সোজা আপনার চোখের রেটিনায় এসে আঘাত করে। ফলে আপনার চোখ নেশাগ্রস্ত মানুষের চোখের মত আস্তে আস্তে লাল হওয়া শুরু করতে পারে।এছাড়া একটু পর পর অকারণে চোখ দিয়ে পানি ঝরে পড়াসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। প্রথমে একে স্বাভাবিক মনে হলেও এক সময় তা মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে।

১১. আত্মহত্যার প্রবনতা:

প্রত্যেকের মোবাইল ফোনেই তার ব্যক্তিগত অনেক তথ্য ও বিভিন্ন ছবি  বা ভিডিও  থাকে। অনেক সময় মোবাইল হ্যাক হয়ে গেলে কিংবা ভুলবশত বা অন্য যে কোন উপায়ে আপনার বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে।বা কেউ আপনার ক্ষতি করার জন্য ছড়িয়ে দিতে পারে। অথবা আপনাকে ব্লাক মেইল করতে পারে। যার প্রভাবে সমাজ ও পারিবারিক জীবনে নানা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অনেকেই এই সামাজিক ও পারিবারিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে আত্মহত্যার মত পথকে বেঁছে নেন। যদি কারো সাথে এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে অন্তত কেউ আত্মহত্যার পথকে বেঁছে নিবেন না। কারণ আত্মহত্যা মহাপাপ।

১২. বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকিঃ

অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে শারিরীক ও মানুষিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি যেমন-চিকন হয়ে যাওয়া, অরুচি, শরীর দুর্বল লাগা, মেধা ও শারিরীক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হওয়া, চোখ জ্বালা করা, ঘাড় ব্যাথা করা,কানে সমস্যা, মাথা ব্যাথা করা, চোখে ঝাপসা দেখা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, জীবাণুর আক্রমণ, চোখের জ্যোতি কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, চিন্তা শক্তি কমে যাওয়া, পর্নো আসক্তি, শ্রবণ শক্তি কমে যাওয়াসহ নানা রকম স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেয়।

এছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে মোবাইল ফোনের আরো বিপুল ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে শিশু কিশোরদের মধ্যে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ নষ্ট হয় এবং মা বাবা, গুরুজন ও অভিভাবকদের উপদেশ না মানার প্রবনতা সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত আড্ডা তাদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ নষ্ট করছে। অনেকে আবার পর্নোগ্রাফি, বিপদজনক ডেটিং, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।সম্প্রতি তরুণ তরুণীদের মধ্যে অতিরিক্ত সেলফি তোলার প্রবনতা দেখা যায়। বিপদজনক জায়গায়, এমনকি ভয়ানক পরিবেশেও তাদের অনেককেই সেলফি তুলতে দেখা যায়। যা মূলত এক ধরনের মানসিক রোগের অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘক্ষন মোবাইল ব্যবহার স্মৃতি শক্তি ও হার্টের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মোবাইল ফোন বর্তমানে খুবই জরুরী একটা যন্ত্র।যেটা মানুষ তার প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। কিন্তু এটা যখন নেশার মত হয়ে যাবে তখন মোবাইল ফোনই আমাদেরকে ব্যবহার করবে। যার ফলে আমরা নানা সমস্যায় পতিত হবো। তাই আমাদেরকে প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।মনে রাখবেন, আপনি আপনার প্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার করবেন। মোবাইল যেন আপনাকে ব্যবহার না করে।অর্থাৎ মোবাইল ব্যবহার যেন নেশার মত না হয়ে যায়। সর্বদা সব দিক থেকে সচেতন থাকার চেষ্টা করবেন। নিজে সুরক্ষিত থাকবেন, অপরকেও সুরক্ষিত রাখবেন।

ভাল থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

মোঃ রবিউল ইসলাম

তারিখঃ ১৮/০৬/২০২৩

তথ্য সূত্রঃ ইন্টারনেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *