mbtv24.com: দেশী-বিদেশী লাখ লাখ মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা আর গভীর শ্রদ্ধায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাযে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ বুধবার বেলা ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাযে অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড় সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এক মহাসমুদ্রে রূপ নেয়।
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল মালেক। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিএনপির শীর্ষ নেতা, বিদেশি অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক, বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তা, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশ নেন। জানাজাস্থল পরিণত হয় জনসমুদ্রে। কঠোর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চির বিদায় জানানো হয় আপষহীন এই নেত্রীকে। সকল স্তরের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে শোকের ছায়া।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তাঁর বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার জানাজাস্থলে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে মায়ের জন্য দোয়া কামনা করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “আমি মরহুমা খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় যদি আপনাদের কারও কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটা পরিশোধের ব্যবস্থা করবো, ইনশাআল্লাহ।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) জীবিত থাকা অবস্থায় ওনার কোনো ব্যবহারে, কোনো কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়া করবেন, আল্লাহতালা যেন তাঁকে বেহশত দান করেন।”

জানাজা শেষে মরদেহ দাফনের জন্য নেওয়া হয় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে। এ সময় সড়কের দুপাশে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এলাকাজুড়ে শোক ও নীরবতার আবহ বিরাজ করে। জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁকে সমাহিত করা হয় তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে। খালেদা জিয়ার কবরে সবার আগে নামেন তাঁর বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজ হাতে তিনি তাঁর মাকে কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দাফনের মধ্য দিয়ে এক বর্ণাঢ্য ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো। দেশবাসী হারালো দেশপ্রেমিক এক মহান নেত্রীকে।
mbtv24.com
তারিখঃ ৩১/১২/২০২৫


