mbtv24.com: খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার বলর্দ্বনা গ্রামের ভুতিয়ার বিল এখন যেন এক টুকরো সোনালী স্বপ্নভূমি। দিগন্তজোড়া হলুদ সূর্যমুখীর সমারোহে বদলে গেছে পুরো এলাকার চিত্র। চলতি মৌসুমে স্থানীয় কৃষকেরা ব্যাপক পরিসরে সূর্যমুখী চাষ করে পেয়েছেন বাম্পার ফলন, যা নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে এ অঞ্চলের কৃষিতে।
পূর্বে এ এলাকার অনেক জমিই বছরের একটি সময় পতিত পড়ে থাকত। ধান কাটার পর দীর্ঘ সময় জমি খালি থাকায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে তেমন লাভবান হতে পারতেন না। তবে এবার সেই চিত্র বদলেছে। স্বল্প সময়ে ফলনশীল তেলবীজ ফসল হিসেবে Helianthus annuus বা সূর্যমুখীর চাষ করে কৃষকেরা পেয়েছেন উল্লেখযোগ্য সাফল্য। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।
সূর্যমুখী একটি তেলবীজ জাতীয় ফসল, যা সাধারণত ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয়। তুলনামূলক কম পানি ও কম খরচে এর চাষ সম্ভব হওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করে একই জমি থেকে বাড়তি আয় করা যাচ্ছে। এবারের ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে । বাংলাদেশে এটি রবি মৌসুমে বেশি চাষ হয়, তবে সেচ সুবিধা থাকলে অন্য সময়েও আবাদ সম্ভব। সূর্যমুখী সাধারণত ধান বা গম কাটার পর জমি ফাঁকা না রেখে চাষ করা যায়। এটি খরা সহনশীল ও জমির উর্বরতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সূর্যমুখীর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল ভোজ্য তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ এই তেল হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং রান্নার উপযোগী। যা হার্টের জন্য ভালো, দেহের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক, হালকা ও সহজপাচ্য এবং ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী।এছাড়া বিভিন্ন খাবার তৈরীতেও ব্যবহৃত হয়। তেল নিষ্কাশনের পর খৈল গবাদিপশু-পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গাছ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যা অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দেয়।
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল আমদানি করতে হয়। তাই দেশীয়ভাবে সূর্যমুখীর আবাদ বৃদ্ধি পেলে আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি পতিত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও ভুতিয়ার বিল এখন আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। হলুদ ফুলে ভরা বিশাল মাঠ স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও টানছে। সূর্যমুখী ফুল মৌমাছিদের আকর্ষণ করে। সূর্যমুখী ক্ষেতে মধু সংগ্রহ করতে আসে ঝাকে ঝাকে মৌমাছি। যা মধু উৎপাদনে সহায়ক হতে পারে। সরিষা ক্ষেতে যেমন, মধুর চাষ করা হয়, তেমনি সূর্যমুখীর ক্ষেতেও মধু চাষ করে আরো বেশি লাভবান হতে পারবেন কৃষকেরা। সূর্যমুখীর এই সাফল্য তেরখাদা উপজেলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। যথাযথ সহায়তা ও বাজারজাত করার সুবিধা থাকলে সূর্যমুখীই হতে পারে এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ভরসা।
মোঃ রবিউল ইসলাম। mbtv24, তেরখাদা, খুলনা।
ভিডিও লিংকঃ
https://www.youtube.com/watch?v=-XL3pIj9SGA

