আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। এই বহুল প্রতীক্ষিত সমঝোতাকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন তাঁরা। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই ঐতিহাসিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের শীর্ষ চার শক্তি— যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি।
গতকাল রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় এই চার দেশ জানায়, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নিলে তারা দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত। বিবৃতিতে নেতারা জোর দিয়ে বলেন, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে কাতার, তুরস্ক, জাপান ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ এই সমঝোতাকে ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এক নতুন দিগন্ত বলে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য, এই চুক্তির পেছনে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে কাতার ও পাকিস্তান। চুক্তির পর কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে মধ্যস্থতায় সহায়তার জন্য পাকিস্তানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং সব পক্ষকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আলোচনা সচল রাখার আহ্বান জানান।
বিশ্বের অন্য প্রভাবশালী নেতারাও এই চুক্তিকে বিশ্বশান্তি, নৌ নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা দ্রুত কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত হবে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মার্কিন ও ইরানি নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই চুক্তি একটি পুনরুজ্জীবিত বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং নিরাপদ মধ্যপ্রাচ্যের পথ প্রশস্ত করবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে সব পক্ষকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করাসহ চুক্তির শর্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণাকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে একটি মাইলফলক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, মহাসচিব আশা প্রকাশ করেছেন যে সব পক্ষ এই ইতিবাচক ধারাকে কাজে লাগিয়ে সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান টানবে।
mbtv24.com
তারিখ: ১৫/০৬/২০২৬

