গবেষক,  ঔপন্যাসিক,  কবি ও সরকারি কর্মকর্তা জনাব এসএম  রইজ  উদ্দিন আহমদ স্বাধীনতা পদক-২০২০ পাওয়া সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

গবেষক, ঔপন্যাসিক, কবি ও সরকারি কর্মকর্তা জনাব এসএম রইজ উদ্দিন আহমদ স্বাধীনতা পদক-২০২০ পাওয়া সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

March 12, 2020 0 By admin

খান আখতার হোসেন:

গবেষক,  ঔপন্যাসিক,  কবি ও সরকারি কর্মকর্তা জনাব এসএম  রইজ  উদ্দিন আহমদ।  সাহিত্যচর্চা তার হৃদয়ের সাথে মিশে আছে। তিনি লিখে যান নিরন্তর । তিনি পুরস্কারের জন্য লিখেন না। তিনি লেখেন এই মাটি ও মানুষের জন্য। তিনি কথা বলেন এই মাটি ও মানুষকে নিয়ে। তার লেখায় উঠে আসে এ মাটির কথা মানুষের কথা ।মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি দেশকে স্বাধীন করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে লালন করেছেন হৃদয় দিয়ে, তার নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে বঙ্গবন্ধু এক অবিস্মরণীয় নাম । হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বিশ্ব সেরা মহান ব্যক্তিত্ব যার ভাষণ কবিতার মত কথা বলে। যার কথা মানুষকে উদ্দীপ্ত করে তিনি সেই মানুষটিকে বুকে লালন করে লিখে চলেছেন অবিরাম। তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাধীনতার স্বপক্ষে গড়া সাহিত্য সংগঠন গাঙচিলের। তিনি গাঙচিলের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান। তিনি গাঙচিলের আজীবন সদস্য। তিনি গাঙচিলের স্থায়ী সদস্য । তিনি গাঙচিলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি । তার বলিষ্ঠ হাতে এগিয়ে চলেছে গাঙচিল। গাঙচিল কাজ করছে প্রান্তিক পর্যায়ের কবি-সাহিত্যিকদের নিয়ে। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় যেসব অবহিত কবি সাহিত্যিক আছে যারা কখনো মূলধারায় আসতে পারেন না। তাদেরকে নিয়ে কাজ করছে এই এসএম রইস উদ্দিন আহমদ । তিনি বিশ্বাস করেন ৬৮ হাজার গ্রাম থেকে যদি একজন করেও  কবি-সাহিত্যিক মূলধারায় উঠে আসে তাহলে শুধু দেশ নয় গোটা জাতি পাবে একটি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ। এসএম রইজ উদ্দিন আহমদ গাঙচিলের একশটি শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছেন । এসব শাখায় নিয়মিত সৃজনশীল সাহিত্য চর্চা, নিয়মিত সাহিত্য বিষয়ক কর্মশালা, নিয়মিত সাহিত্য প্রকাশনা হয়ে থাকে। এই গাঙচিল থেকে এপর্যন্ত বেরিয়েছে সৃজনশীল ১২০০ বই । এসব  লেখকরা প্রায় সবাই প্রান্তিক পর্যায়ের। তাদের লেখা এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ প্রকাশের ব্যবস্থা করে দেন । লেখকরা উঠে আসে সাহিত্যের ধারায় । তার এ নিরলস প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে অবলোকন করছেন বাংলাদেশ সরকার। আর এজন্যেই এবারের স্বাধীনতা পদকের জন্য মন্ত্রিপরিষদ তার নাম প্রস্তাব করেছেন। আমরা গর্বিত এই স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য। গাঙচিলের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে আরো ত্বরান্বিত করবে এ পুরস্কার। জাতির জনকের কন্যা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেত্রী এ পুরস্কার এমন একজনকে দিয়েছেন তিনি কাজ করে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের সাথে। নীরবে নিভৃতে রচনা করছেন সৃজনশীল সাহিত্য। গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, গাঙচিল লেখিকা পরিষদ, উত্তরবাংলা লেখক ফোরাম, দক্ষিণ বাংলা লেখক ফোরাম, ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটি এবং বাংলাদেশ কবি লেখক ঐক্য পরিষদ এর পক্ষ থেকে মহান নেত্রী কে আমরা শ্রদ্ধা জানাই, আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই তার প্রতি। এই দেশে সাহিত্যচর্চা করেন অনেকেই। কিন্তু সবাই পুরস্কার পান না, কেন পাননা? পরিচিতি নেই এজন্য হয়তোবা তাই বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক সাবেক শামসুজ্জামান খান বলেছেন রইজ উদ্দিনের নাম তিনি নাকি শোনেন নি। বড্ডো হাস্যকর লাগে তার বক্তব্যে। তিনি পুরস্কার নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। আমার প্রশ্ন তিনি যতদিন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন তিনি কাদেরকে পুরস্কার দিয়েছেন? তার সম্পর্কে রটনা আছে তিনি নাকি মুখ চিনে চিনে পুরস্কার দিতেন। হায়রে মহাপরিচালক। তিনি ঔপন্যাসিক মঈন উদ্দিন কাজল এর মতন ব্যক্তিকেও পুরস্কার দেন না। তিনি রহিজ উদ্দিনকে চেনেন না। কিন্তু মজার কথা হচ্ছে রইস উদ্দিন সাহেব বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য। প্রতিবছর সাধারণ সভায় তিনি যোগ দিতেন। তিনি মহাপরিচালকের সাথে কথা বলতেন। তার লেখা বই দিতেন। রইজ উদ্দিন আহমেদের খুলনা বিভাগের ইতিহাস,  নড়াইলের ইতিহাস, উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কাব্যগ্রন্থ, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কাব্যগ্রন্থ, দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের সবার মনে স্থান করে নিয়েছে। তিনি গাঙচিলের ডানায় ঘুরে বেড়িয়েছেন সারা বাংলার জনপদে। গানচিলের ১২৬ টি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে তিনি যোগ দিয়েছেন। পরিচয় হয়েছে সকল পর্যায়ের কবি-সাহিত্যিকদের সাথে। তার পরেও তার সম্পর্কে বিতর্ক আমরা খুলনাবাসী মেনে নিতে পারছিনা প্রতিবাদ করছি বিতর্ক এর জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে কাজটি করেছেন এর থেকে আমরা উদ্বুদ্ধ হলাম এই ভেবে যে, যে যত প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকুক না কেন তার কথা সরকার ভাবেন। তার কাজের মূল্যায়ন করেন। তার জন্য পুরস্কার সুপারিশ করেন। এতে আমরা ৬৮০০০ গ্রামবাসী উদ্বুদ্ধ হলাম। কোন পুরস্কার কারো হাতে বাধা নয় বিজ্ঞ মন্ত্রিপরিষদ যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই।

 

অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন

(জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার)

যুগ্ম শ্রম পরিচালক (অব), শ্রম অধিদপ্তর

প্রতিষ্ঠাতা,  গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ,